ফুটবল দুনিয়ায় কার্লো আঞ্চেলত্তি এক কিংবদন্তি নাম। শৈশবের শুরুটা ছিল খুব সাধারণ — ইতালির রেজ্জিওলা নামের এক ছোট্ট গ্রামে। গরু-ছাগল পালনের ফাঁকে ফুটবলই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় আনন্দ। খেলা ভালোবাসতেন, কিন্তু কে জানত একদিন বিশ্বের বড় বড় ক্লাবের কোচ হবেন!
খেলোয়াড়ি জীবন শুরু হয় পার্মা ক্লাবে। এরপর রোমার হয়ে শিরোপা জেতা, আর মিলান ক্লাবে ইউরোপ জয় — সবকিছু যেন এক সিনেমার গল্প। মাঠে ছিলেন নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার। কিন্তু খেলোয়াড়ের চেয়ে বড় পরিচিতি পান কোচ হিসেবে।
কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেন দেশে। পরবর্তীতে জুভেন্টাস, মিলান, চেলসি, পিএসজি, রিয়াল মাদ্রিদ, বায়ার্ন মিউনিখসহ ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবে কাজ করেছেন। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে অসংখ্য শিরোপা — বিশেষ করে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সবচেয়ে বেশি বার শিরোপা জয়ের রেকর্ড তাঁরই।
কোচ হিসেবে আঞ্চেলত্তির বৈশিষ্ট্য ছিল তাঁর নমনীয়তা। কখনও কোনো নির্দিষ্ট ফর্মেশনের জন্য একগুঁয়ে ছিলেন না। খেলোয়াড়দের সামর্থ্য অনুযায়ী তিনি কৌশল তৈরি করতেন। এই কারণেই বড় বড় তারকা খেলোয়াড়েরা তাঁর সঙ্গে খেলে আনন্দ পেতেন।
কিন্তু ইউরোপে প্রায় সব জিতেই, এবার নতুন চ্যালেঞ্জের খোঁজে বের হন আঞ্চেলত্তি। আর সেই সুযোগ এনে দেয় দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী দল — ব্রাজিল।
বর্তমানে তিনি ব্রাজিল জাতীয় দলের প্রধান কোচ। সবাইকে অবাক করে ব্রাজিল তাঁকে ডাকলো। কেন?
অনেক বছর ধরেই ব্রাজিল বড় টুর্নামেন্টে প্রত্যাশামাফিক ফল পাচ্ছে না। বিশ্বকাপে বারবার ব্যর্থতা, কোপা আমেরিকায় ওঠানামা — এমন অবস্থায় ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন চেয়েছে এমন এক কোচ, যার অভিজ্ঞতা, সাফল্য এবং শান্ত নেতৃত্ব দলকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারবে।
কার্লো আঞ্চেলত্তি ঠিক সেই মানুষ।
তিনি ইউরোপিয়ান ফুটবলের সেরা তারকাদের সামলেছেন, চাপের মুহূর্তে দলের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়েছেন। তাঁর কাজের ধরন ‘প্লেয়ার-ফার্স্ট’। খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে তৈরি করা এবং টিম স্পিরিট গড়ে তোলায় তিনি সিদ্ধহস্ত।
এখন ব্রাজিলে তাঁর লক্ষ্য খুব পরিষ্কার:
👉 বিশ্বকাপের জন্য নতুনভাবে দল গঠন করা
👉 তরুণ খেলোয়াড়দের তুলে আনা
👉 ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের ঐতিহ্য — সেলেসাও স্টাইল — আর ইউরোপীয় আধুনিক ফুটবলের মিশ্রণ ঘটানো
👉 দীর্ঘদিনের শিরোপার খরা কাটানো
আঞ্চেলত্তির আশা — ব্রাজিল আবার বিশ্বসেরা হোক।
তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক পরিকল্পনা, নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড় এবং ইতিবাচক দলীয় সংস্কৃতি গড়ে তুললে ব্রাজিলকে ফের সাফল্যের পথে আনা সম্ভব।
এদিকে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলপ্রেমীরাও বেশ উচ্ছ্বসিত। একদিকে তাঁদের ঐতিহ্যবাহী সৃষ্টিশীল ফুটবল, অন্যদিকে আঞ্চেলত্তির কৌশলগত গভীরতা — এই যুগলবন্দিতে নতুন স্বপ্ন দেখছে সবাই।
অন্যদিকে, আঞ্চেলত্তির নিজের জন্যও এটি এক বিশেষ অধ্যায়। ইউরোপে প্রায় সব অর্জনের পর এবার তিনি নিজেকে প্রমাণ করতে চান বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে রঙিন দলের কোচ হিসেবে।
ফুটবল বিশ্ব তাই তাকিয়ে আছে — এক শান্ত অথচ অপ্রতিরোধ্য নেতার নেতৃত্বে ব্রাজিল কেমন ঘুরে দাঁড়ায়।